হোম / কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রাম

নাগেশ্বরীতে লাম্পি রোগে গরুর মৃত্যু, দুশ্চিন্তায় খামারি ও কৃষক

প্রকাশ: ২৭ মে ২০২৬, ০২:১৪ পূর্বাহ্ণ পড়া হয়েছে: ৩৪ বার

নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের জুড়ে লাম্পি স্কিন রোগে গরু আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনায় খামারি ও কৃষকদের মাঝে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে একের পর এক গরু আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নেওয়াশী ইউনিয়নে ইতোমধ্যে অন্তত পাঁচটি গরুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে মুছুল্লিপাড়া গ্রামের আমজাদ হোসেন, আশরাফ হোসেন, খলিল মিয়া, শুকুর আলী ও হাছেন আলীর একটি করে গরু মারা গেছে।

এদিকে নারায়ণপুর ইউনিয়নের হাইস্কুলপাড়া গ্রামের ওসমান গণির একটি গরু বর্তমানে আক্রান্ত রয়েছে। একই এলাকার আব্দুল আলীমের একটি গরু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। এছাড়া প্রায় এক মাস আগে জয়নাল আবেদীনের একটি বাছুরও মারা যায়।

ভুক্তভোগী কৃষকদের দাবি, অধিকাংশ গরুই লাম্পি স্কিন ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খুরা রোগে গবাদিপশু আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আক্রান্ত ও মৃত গরুর মধ্যে অধিকাংশই বাছুর বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গোবর্ধনেরকুটি হাজীপাড়া গ্রামের ছোহরাব হোসেনের একটি বাছুর, হাসনাবাদ ইউনিয়নের চতলারপাড় এলাকার নবুর হোসেনের একটি গরু এবং গাবেরতল এলাকার আসাদুলের একটি গরু গুরুতরভাবে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে।

গরুর মালিকদের অভিযোগ, এখন পর্যন্ত তারা সরকারি কোনো কার্যকর চিকিৎসা বা পরামর্শ পাননি। এ পরিস্থিতিতে খামারিদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। অনেক গরুর ক্ষত শুকিয়ে গেলেও কোরবানির বাজারে এসব গরু কিনতে ক্রেতাদের অনাগ্রহ দেখা দিচ্ছে। এতে লাভের পরিবর্তে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা করছেন খামারিরা।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের কর্মকর্তা ককিল চন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আরিফুর রহমানের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। পরে আরিফুর রহমান জানান, উপজেলায় মাত্র দুইজন চিকিৎসক থাকায় মাঠপর্যায়ে গিয়ে নিয়মিত চিকিৎসা ও পরামর্শ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, “লাম্পি ভাইরাসের ভ্যাকসিন সরকারি সরবরাহে সীমিত থাকায় সবাইকে দেওয়া সম্ভব হয় না। যারা হাসপাতালে আসে, তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া মাঠকর্মীরাও সচেতনতা ও পরামর্শ কার্যক্রম চালাচ্ছেন।”

প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত গরুর শরীরে গুটি দেখা দেয়, জ্বর আসে, খাবারে অরুচি তৈরি হয় এবং ধীরে ধীরে গরু দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে দ্রুত চিকিৎসা না পেলে প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়ে।

স্থানীয় খামারি ও কৃষকরা দ্রুত পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন সরবরাহ ও মাঠপর্যায়ে চিকিৎসাসেবা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!